পড়াশুনা ও সংসার খরচ চালাতে মায়ের সাথে “চুড়ি বিক্রি” করে আজ কঠিন লড়াইয়ের পর অফিসার

যোগ্যতা থাকলে ঠিক কোন না কোন রাস্তা বেরিয়ে আসে। আজকে আপনাকে এমন একটি মানুষের কথা বলব, যারা কঠোর পরিশ্রম তাকে সকলের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। রমেশ ঘোলাপ নামে এমন একটি ব্যক্তি, যিনি কেবলমাত্র তার স্বপ্নকে পূরণ করেছেন তা কিন্তু নয়, তিনি প্রমান করে দিয়েছেন যে কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার থাকলেই সব কিছু অর্জন করা সম্ভব। তার গল্প শুনে প্রত্যেক ব্যক্তি তাকে সেলাম জানিয়েছেন এবং স্বীকার করেছেন যে কষ্ট করলে একদিন ঠিক তার ফল পাওয়া যায়। তিনি আজ একজন আইএএস অফিসার।

রমেশ ঘোলাপ এমন একজন ব্যক্তি যিনি, প্রত্যেক ব্যক্তিকে জানিয়েছেন সিভিল সার্ভিসের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার। ছোটবেলা থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন তিনি। পোলিও শিকার হয়েছিলেন তিনি। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে, তার মা রাস্তায় চুরি বিক্রি করতেন এবং সংসার চালানোর চেষ্টা করতেন। তবে এই সমস্ত জিনিস কে পিছনে ফেলে দিয়ে আজ রমেশ একজন আইএএস অফিসার হয়ে দেখিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন যে, তার মা যখন রাস্তায় চুরি বিক্রি করতেন তখন তার বাবা একটি ছোট সাইকেলের দোকানে কাজ করতেন। মানুষের বাবা মদ খেতেন এবং বাড়িতে সেইভাবে টাকা দিতেন না। বাড়ির অবস্থা এতটাই খারাপ যে অর্ধেক দিন তাদের আধপেটা খেয়ে চালাতে হতো। এরপর মামার বাড়িতে গিয়ে রমেশ দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা দিয়েছিলেন। দ্বাদশ শ্রেণীতে প্রায় ৮৮% নম্বর পেয়ে পাশ করেছিলেন তিনি।

ঠিক এই সময় তার বাবা মারা যান। আরে একবার আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে যেতে হয়েছিল তাদের। তবে ততদিনে দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা পাস করে রমেশ উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি ডিপ্লোমা করেন এবং গ্রামের একটি স্কুলের শিক্ষক হন। ডিপ্লোমা করার পাশাপাশি বি এ ভিডিও করেছিলেন তিনি। রমেশ শিক্ষকতার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল একেবারেই অন্যরকম।

এক সময় চাকরি ছেড়ে ইউপিএসসি পরীক্ষা দিতে শুরু করেন তিনি। তবে প্রথমবার সাফল্য পাননি। কোনরকম কোচিংয়ে পড়াশুনা না করে শুধুমাত্র নিজের পড়াশোনা করে পরীক্ষায় বসতেন তিনি। এরপর সিভিল সার্ভিসে পড়াশোনা করার জন্য পুনেতে চলে যেতে হয়েছিল তাকে। তিনি শপথ করেছিলেন যে আইএএস পরীক্ষা পাস না করা পর্যন্ত তিনি গ্রামে আসবেন না। এরপর দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করার পর অবশেষে তিনি ইউ পি এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন 2012 সালে। 287 নম্বর পদ অর্জন করে এই মুহূর্তে তিনি ঝাড়খণ্ডের কুন্তী জেলার এস ডিএম হওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button