ভারতীয় বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান মাস্টারসেফ সিজন ১৩ বিজয়ী হয়ে পেয়েছেন ১.৮ কোটি টাকা পুরস্কার

রান্না হচ্ছে এক ধরনের আর্ট, যার মর্যাদা সবাই দিতে পারে না। বড় বড় রেস্তোঁরায় আমরা দেখে থাকি ছেলেরাই বেশি মাস্টার শেফ হয়, যদি আমাদের প্রচলিত ধারণা আছে, রান্না বলতে মেয়েদের কথাই বোঝা হয়। রান্নার সাথে মেয়েদের ওতপ্রত যোগ আছে, কিন্তু শুধুমাত্র মেয়েদের জন্যই শুধু মাত্র রান্না, এর কোন মানে নেই।

View this post on Instagram

A post shared by MasterChef Australia (@masterchefau)

বর্তমানে হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্স এ ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে সবাই পড়ছেন এবং দেশে, বিদেশে বিভিন্ন বড় বড় রেস্টুরেন্ট দেখা যায়, রান্নাঘরে রান্না করছেন মাস্টার সেফ, তারা বেশিরভাগ পুরুষই। রান্না নিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতাও টেলিভিশনে আমরা দেখতে পাই। তেমনই একটি রান্নার প্রতিযোগিতা হলো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া। এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন জাস্টিন নারায়ন। জাস্টিন পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা, সেখানে তিনি বিজয়ী হয়ে জিতেছিলেন ২.৫ মিলিয়ন ডলার ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১.৫ কোটি টাকা। সেই গ্রান্ড ফাইনালে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোর চৌধারি ও নিউ সাউথ ওয়েলসের পিট ক্যাম্বেল। তাদের দু’জনকেই পিছনে ফেলে রেখে সেরার সেরা খেতাব জিতে নিয়েছিল জাস্টিন।

অবশ্য তাঁর এই রান্নার ইচ্ছা বা আগ্রহ কে সাপোর্ট করেছিলেন তার মা। তিনি যখন প্রথম রান্নাকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তাতে সম্পুর্ন সমর্থন করেছিলেন একমাত্র তারা মা ই। তাই তিনি এই প্রতিযোগিতা জিতে সমস্ত কৃতিত্ব তার মাকেই দিতে চেয়েছেন, জাস্টিন বলেন যে, তিনি আজ যে জায়গায় রয়েছেন তার কৃতিত্ব সবটাই তাঁর মা এর প্রাপ্য। তার অনুপ্রেরণা না থাকলে তিনি আজ রান্নাকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারতেন না।

যদিও এখানেই শেষ নয়, ভবিষ্যতে জাস্টিনের ইচ্ছা আছে নিজস্ব একটি রেস্টুরেন্ট করার। তবে এখন জাস্টিন নারায়ন অনেক পরিচিত মুখ আমাদের কাছে। তার কারণ অস্ট্রেলিয়া মাস্টারশেফ হল একটি বিশ্বের বৃহত্তম রান্নার প্রতিযোগিতা, যা ১৩ বছর ধরে চলছে, এখানে অংশগ্রহণ করার পরে অনেক প্রতিযোগীই জীবনের মোড় ঘুরে গেছে।

আশা করা যায় জাস্টিন নারায়নের জীবনও বদলে যাবে, আর তিনি এই খেতাব জিতে শুধু নিজের মুখ উজ্জ্বল করেছেন তা নয়, সাথে সাথে ভারতকেও গর্বিত করেছেন। যার ফলে মাস্টারশেফ অস্ত্রালিয়া জিতে নারায়নের ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রকাশিত হয়েছিল, এবং তাতে হ্যাশট্যাগ লেখা মাস্টারশেফ ইউ ২০২১ এর বিজয়ী কে অভিনন্দন জানানো হয়েছিল। আমরাও আপ্লুত এই খবরে, কারণ আমাদের ভারতীয় একজন সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছে। ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছে আমরাও তাকে জানাই অনেক অভিনন্দন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button