অটো চালকের মেয়ে যে ভাবে আজ মিস ইন্ডিয়া! গ্লপটা পড়লে আপনি সত্যিই অনুপ্রাণিত হবেন

এক সাধারণ মেয়ে থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প প্রকাশিত হলো সোশ্যাল মিডিয়ায়। একটা সামান্য মেয়ে অসামান্য নারী হয়ে ওঠার ঘটনা। সারা পৃথিবী দেখলো তার এই সাফল্যের কাহিনী। সদ্য ঘটে গেলো ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া 2020, যেখানে সুন্দরীর শিরোপা উঠলো মান্যা সিং এর মাথায় ।তিনি পড়লেন সুন্দরী হওয়ার মুকুট’।

আদবে তিনি একজন খুবই নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে ,যেখানে অর্থাভাব সুস্পষ্ট ,দুবেলা-দুমুঠো কোন রকমে চলে যায় । সেইরম পরিবারের মেয়ে মান্যা। তবু তিনি স্বপ্ন দেখতেন সুন্দরী হবার।সুন্দরীর খেতাব পাওয়ার ,বাবা পেশায় রিকশাচালক সেই রোজগার এই কোনরকম দিন চলে যায় । তবে মান্যা এইচএস এ টপার হয়েছিলেন।

লেখাপড়া খুবই মেধাবী ছাত্রী ছিলেন, কিন্তু অনেক অল্প বয়স থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন সুন্দরী শিরোপা মাথায় পড়ার।সেই স্বপ্ন সত্যি হয়ে গেল ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া 2020 তে। তিনি দ্বিতীয় রানারআপ এর পদ অর্জন করলেন। তার নামের সাথে মাথায় যোগ হলো এক নতুন মুকুট। এছাড়া দ্বিতীয় হয়েছে হরিয়ানার মনিকা শেওকান্দ ,মান্যা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা যথেষ্ট বুদ্ধি মতি ছিলেন , ফলে তার মা তার গয়না বেঁচেও তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন।

তিনি মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে নিজের পড়াশোনা জীবন কাটিয়েছেন শুধুমাত্র দুটো পয়সা বাঁচাবার জন্য, কতটা অর্থাভাবে থাকলে মানুষ এরকম করতে পারে তা হয়তো আমরা বুঝতেই পারছি। সেই চরম অর্থকষ্টে নিজের স্বপ্নকে ভাঙতে দেননি মান্যা। এইচএস এর পর নিজের পড়াশোনা চালানোর জন্য মান্যা দিনের বেলায় বাসন মাজার কাজ ও রাতে কল সেন্টারে কাজ করত।

প্রচুর পরিশ্রম করে নিজের পড়াশোনার খরচা চালিয়ে গেছেন, কখনোই পরিস্থিতির কাছে হার মেনে নেননি তিনি, বরং পরিস্থিতি তার কাছে হার মেনেছে বারংবার ।জীবনে চলার পথে কষ্ট পেয়েছি কষ্ট গুলোকে কষ্ট মনে করেননি তিনি। ছুটে চলে ছিলেন তাঁর স্বপ্নের পেছনে ।জীবনের লক্ষ্য তৈরি করে ফেলেছিলেন ,আর তাই এই সুন্দরী প্রতিযোগিতা তে নিজের নাম দিয়েছিলেন ।
আর তার এই স্বপ্নের পেছনে যে মানুষ টি সাহস যুগিয়েছিল মানুষটি সে মানুষটি আর কেউ নন মান্যার বাবা। যে মেয়ের স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়েছেন তার বাবা সেখানে তো স্বপ্ন পূরণ হতে বাধ্য ।

এই প্রতিযোগিতায় জাজের আসনে ছিলেন নেহা ধূপিয়া চিত্রাঙ্গদা সিং পূলকিত সম্রাট এছাড়াও দুই ফাশন ডিজাইনার ফাল্গুনী শেন পিকক। তারাই সেরা তিন জনকে বেছে নিয়েছিলেন। শুধুমাত্র শারীরিক সৌন্দর্য দিয়ে নয়, বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েও এই প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হতে হয় ।এই দুটোর পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন মান্যা।

যার জন্য তাকে সেরার শিরোপা পড়া থেকে আটকাতে পারেননি ,তবে মেয়ের এই সাফল্য দেখার সময় বাবা এবং মা কান্না থামাতে পারেননি। হয়তো এ আনন্দ অশ্রু যা বাবার আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ,তার সন্তানকে জীবনের সাফল্য পেতে দেখে। মান্যা দেখিয়ে দিলেন এভাবেও ফিরে আসা যায় । জীবনের যতই দুঃখ কষ্ট প্রতিবন্ধকতা থাক অদম্য জেদ আর ইচ্ছা শক্তির জোরে সবকিছু পেরিয়ে যাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button