IAS পরীক্ষার প্রস্তুতি ছেড়ে, বন্ধুদের সাথে শুরু করেছিলো চায়ের দোকান, আজ ১০০ কোটি টাকার টার্নওভার।

নেশা মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, নেশা করেন না এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তবে আবার এই নেশাও বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, কেউ সূরাপান করেন তো কেউ অন্যকিছু কে নিজের নেশা বানিয়ে ফেলেছেন। তবে এই নেশা যে সে নেশা নয়, এই নেশা শুধুমাএ ভারতবর্ষের নয়, পৃথিবীর সমস্ত লোকের। এই নেশা করেন না এ কথা হলফ করে কেউ বলতে পারেন না। কিন্তু কথা হচ্ছে কিসের এই নেশা সারা পৃথিবীর মানুষকে বিভোর করে রেখেছে।

সে নেশা সাধারণ মানুষের বাড়ি থেকে ফিল্মস্টারদের খুব পছন্দের। আমাদের দেশে বিভিন্ন রকমের চা পাওয়া যায়,তাই পথচলতি চায়ের নানান দোকান স্টল আমাদের চোখে পড়ে যেখানে বিভিন্ন ভ্যারাইটি চা পাওয়া যায়, আর আমরা যারা চা প্রিয় মানুষ তারা একবার হলেও সেগুলো টেস্ট করেইছি। চা অত্যন্ত জনপ্রিয় পানীয় তাইতো দেখা যায় ট্রেনে বাসের বিভিন্ন জায়গায় অনেক হকার চা বিক্রি করেন এবং তা নির্দ্বিধায় গন্তব্যস্থলে যাত্রা করতে করতে আমরা পান করি এবং যাত্রার মজা নিয়ে থাকি, এমনই একটি গল্প হলো অনুভব আর আনন্দ এর।

দুজনেই মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর এর বাসিন্দা। অনুভব গ্রাম ছেড়ে ইন্দরে আসেন এবং এসে সেখানে আনন্দ নায়েকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়। কিছুদিন পরে অবশ্য আনন্দ পড়াশোনা ছেড়ে তারা আত্মীয়র সাথে এক ব্যবসা শুরু করেন। অপরদিকে তখন ইউ পি এস সি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দিল্লি এসেছিল অনুভব। সেই সময়েই একটি ফোনালাপে দুজনের কথোপকথন হয় এবং তাতেই আনন্দ তাকে বলেছিল যে তার ব্যবসায় মন্দা চলছে। তাহলে দুজনেই নতুন কিছু করার একটি পরিকল্পনা শুরু করে এবং এই পরিকল্পনা করতে করতেই তাদের যে ব্যবসার কথা মাথায় এসেছিল তা হলো চায়ের ব্যবসা। এই পৃথিবীতে জলের পরে যদি কোন কিছুর সবথেকে বেশি চাহিদা থেকে থাকে তা হল চা এবং এটি দিয়ে খুব সহজেই কম খরচে ব্যাবসা শুরু করা যাবে।

তাঁরা স্থির করেন এই চা নিয়ে ব্যবসা করবেন আর যেমন ভাবনা তেমনই কাজ, ২০১৬ সালে তিন লাখ টাকা খরচা করে ইন্দরে একটি চায়ের দোকান খুলে ফেলেন এই দুই বন্ধু। বর্তমানে ব্যবসা থেকে বছরে টার্নওভার ১০০ কোটি টাকা। এক কথায় বলা যেতে পারে চা এখন আর মানুষের শখ নয় অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অবশ্য শুরুতে তাদের অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল তাদের, মানুষের অনেক গালিগালাজ ও সইতে হয়েছিল কোন ভাল কাজ করতে গেলে এ ধরনের বাধা আসতেই পারে কিন্তু দু’জনেই তাতে থেমে থাকেন নি।

ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়তে থাকে উপার্জন শুরু হয় চাহিদা বাড়তে থাকে সারাদেশে তাদের ১৬৫ টি আউটলেট রয়েছে ১৫ টি রাজ্য ও তাদের ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে এমনকি বিদেশেও পাঁচটা আউটলেট রয়েছে প্রতিদিন প্রায় এক মিলিয়ন গ্রাহক সারাদেশে আউটলেট ভিজিট করে বলে জানা গেছে। তাদের চায়ের দোকানে চা বিক্রি হয় সেগুলি হল মসলা চা, লেবু চা, তুলসি চা, জাফরান সাদা, এলাচ চা , সুপারি চা দিয়ে দোকানের এত ভ্যারাইটি পাওয়া যায় সেখানে মানুষের ভিড় হবে এটাই তো স্বাভাবিক । দোকানের নাম দেয়া হয়েছে চায় সুট বার ।সেকেন্ডহ্যান্ড ফার্নিচার কিনে আউটলেট সাজিয়ে ছিলেন তাঁরা। ডিজাইন করার জন্য কিছু টাকা ধারও নিয়েছিলেন তাঁরা।কিন্তু আজ তাদের ব্যবসা দেখে এটাই বলা যায় জীবনে রিক্স না নিলে হয়তো ঘুরে দাঁড়ানো যায় না, যা প্রমাণ করেছেন এই দুই যুবক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button