মৃত্যুর পরেও দেশকে রক্ষা করে যাচ্ছে সৈনিক হরভজন সিং এর আত্মা! জানলে চোখে জল আসবে

দেশের জন্যে অনেক সৈনিক প্রতিদিন নিজের প্রানের বাজি রেখে আমাদের রক্ষা করে চলেছেন। অনেকেই শহীদ হয়ে যাচ্ছেন দেশের সেবা করতে করতে। কিন্তু আজ আমরা এমন একজনের কথা বলব যিনি শহীদ হাওয়ার পরেও শত্রুদের সাথে লড়াই করে চলেছেন। পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইল। সিকিম সংলগ্ন নাথুলা পাশ।

বরফাবৃত পাহাড়। রক গার্ডেনস, খরস্রোতা নদী, ইতিউতি জনবসতি। তার মাঝে লাল হলুদ রঙা ছোট্ট একটা মন্দির। মন্দিরের অন্দরমহলে নেই কোন মূর্তি। রয়েছে একটি সেনার পোশাক, এক জোড়া জুতো। সেখানেই প্রতিদিন ভিড় করেন ভক্তরা।

এখানেই পূজিত হন বাবা হরভজন সিং।১৯৬৮সাল। শহীদ হন পাঞ্জাব রেজিমেন্টের জওয়ান হরভজন সিং। তারপর কেটে গিয়েছে ৪৮ বছর। কিন্তু তিনিআজও আছেন। আছেন মানুষের বিশ্বাসে। মৃ’ত্যুর পরেও কর্তব্য পালনে কোন খেদ পড়েনি তাঁর। এমনটাই বিশ্বাস ভারত-চীন সীমান্তে কর্তব্যরত ভারতীয় সেন-জওয়ানদের।

সেই বিশ্বাস থেকেই এখনও উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও সেনাদের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধাও পান হরভজন সিংয়ের বাবা। হরভজন সিং এর জন্ম ১৯৪১-এ। ১৯৬৬ সালে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬৮-তে তুষারধসে প্রা’ণ হা’রান হরভজন সিং। দীর্ঘ সার্চ অপারেশনের পরেও তাঁর দেহের সন্ধান মেলেনি। কথিত আছে, এক সহকর্মীরস্বপ্নে তাঁর দেহের ঠিকানা দেয় হরভজন।

সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় তাঁর দেহ, সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃ’ত্যও। এরপরেই ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে নাথুলায় বাবা হর‍ভজন সিংয়ের স্মৃতিতে মন্দির নির্মাণ করা হয়। এই মন্দিরে তাঁর একটি ঘর আছে, যেখানে রাখা থাকে হরভজন সিংয়েরপোশাক ও জুতো নিয়ম করে পরিষ্কার করা হয় সেই পোশাক ও জুতো।

নাথুলা সংলগ্ন অঞ্চলে কর্মরত সৈন্যরা বলেন‚ বাবা হরভজনকে এখনও দেখা যায়। তিনি নাকি ঘোড়ায় চেপে টহল দেন এখানে ওখানে। জ্যোৎস্নাভেজা রাতে প্রায়ই নাকি দেখা যায় এক ঘোরসওয়ারির ছায়ামূর্তি টহল দিচ্ছে।সম্প্রতি‘অবসর‘ নিয়েছেন তিনি। তার আগে অবধি প্রতি বছর ‘বার্ষিক ছুটি‘পেতেন তিনি।

মালপত্র ভর্তি ট্রাঙ্ক দুজন সিপাইয়ের সঙ্গে যেত কাপুরথালায় আবার ফিরে আসত এক মাস পরে।‘ছুটি‘ কাটিয়ে। তাঁর অস্তিত্ব সজীব চিনের কাছেও। প্রতি মাসে একবার নাথুলায় ফ্ল্যাগ মিটিং হয় দু দেশের। তখন একটি চেয়ার রাখা হয় হরভজন সিং-এর নামে।

হরভজন সিংয়ের অবসরে যাওয়ার বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত তার বাড়িতে বেতনের চেক পৌঁছে দিত ভারতীয় সেনাবাহিনী। মৃত্যুর পর তাকে ক্যাপ্টেন পদেও উন্নীত করা হয়।সমাধির সঙ্গে বানানো হরভজন সিংয়ের বিশ্রাম কক্ষের বিছানার চাদর প্রতিদিন এমন হয়ে থাকে, যা দেখে অনেকেরই মনে হয়, কেউ যেন রাতে সেখানে বিশ্রাম করেছেন।ওই মন্দিরে ভক্তরা প্রসাদ হিসেবে নিয়ে আসেন শুধু এক বোতল পানি।

ভক্তদের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী সেখানে খাওয়া ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করে।প্রতিবছর হাজার-হাজার মানুষ ১৪ হাজার ফুট (৪ কিলোমাটিরের অধিক) দূরত্ব অতিক্রম করে এই মন্দিরে যান। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের বিষয় বাদ দিয়ে খুব নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ১৪ হাজার ফুট পাহাড়ের ওপর বরফে ঘেরা জমি আর কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসের মধ্যে হরভজন সিং এক লড়াকু মানুষের প্রতীক।যে লড়াকু মানসিকতা যেমন সীমান্তের প্রহরীদের সাহস যোগায়, ঠিক তেমনই সাহস যোগায় পৃথিবীর সব লড়াকু মানুষকে।এভাবেই না থেকেও প্রবলভাবে আছেন দেশরক্ষক হরভজন সিং। মৃ’ত্যুর পরেও রত অতন্দ্র প্রহরায়। মধ্যরাতের অশরীরী ঘোড়সওয়ার হয়ে এখনও চিন-ভারত সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন ‘মৃ’ত সৈনিক’।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button