ভারতীয় মহিলা কবাডি বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক সঙ্গীতাকে আজ ঠোঙ্গা বানিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে

ছোটবেলা থেকে স্কুল জীবনের শুরুতেই কবাডি কে ভালবেসে ফেলেছিলেন। তাই সেই কবাডি কে সঙ্গে করে নিয়ে এই জীবনে এগিয়ে এসেছিলেন। কবাডি কে নিয়ে নিজের জীবনে কিছু স্বপ্ন পূরণ করবেন বলে। পড়াশোনার পাশাপাশি শুরু হয় কবাডি কি নিয়ে বেড়ে ওঠা।সুন্দরবনের রায়দিঘি এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে সঙ্গীতা। স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তে গিয়ে কবাডিকে ভাল বেসেছিলেন।

ভেবেছিলেন কবাডি খেলেই নিজের জীবন গড়বেন। তিনি ভেবেছিলেন কবাডি খেলেই নিজের জীবনের ভবিষ্যৎ গড়বেন। পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন ভাই বোনের পড়াশোনা খরচ এবং বাবার দেখভাল করবেন।কিন্তু শিশু বয়সেই তিনি তার পিতাকে হারান। তার সে স্বপ্ন পূরণ হলো কোথায়? এক সময় তিনি মহিলা কবাডি দলের অধিনায়ক ছিলেন।

নিজের সেরা পারফর্মেন্স এর মাধ্যমে সেবার জাতীয় দলের সেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।দেশকে নিয়ে গেছিলেন সেরার শিরোপায়। করা হয়েছিল তাকে অনেক সম্মানিত। কিন্তু আজ ও জোটেনি এই কাবাডি দলের অধিনায়ক এর ভাগ্যে একটা সরকারি চাকরি। ছুটি নিয়ে একটা গ্রুপ ডি বা পিয়নের চাকরি।আজ তার দিন চলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দৈনন্দিন জীবনে বেঁচে থাকার লড়াই তাই তারা আজ কঠিন থেকে আরো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই নিজের জীবনে চলার জন্য ঠোঙ্গা বানানোর কর্মকেই হাতে তুলে নিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন কাজের অবসর সময়ে তিনি ঠোঙা বানান। এই ঠোঙ্গা বিক্রি করে যেটুকু টাকা উপার্জন হয় তা দিয়ে তিনি সংসারের এবং নিজের নিজের ঘর ভাড়া এবং খেলার খরচ চালান।

জোটেনি তার ভাগ্যে এখন একটা সরকারি চাকরি।অনেকের কাছে অনুনয়–বিনয় করেও সঙ্গীতার ভাগ্যে জোটেনি কোনও চাকরি। তাই সোনারপুরের আমন্ত্রণী সংসদের মাঠে পুলিসের আয়োজনে কবাডি প্রতিযোগিতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে পুরস্কার নেওয়ার সময় কেঁদেই ফেললেন সঙ্গীতা। 

সঙ্গীতার কথায়, ‘‌স্কুল, রাজ্য, জাতীয় স্তর, ফেডারেশনের খেলায় একাধিকবার প্রতিনিধিত্ব করেছি। পুরস্কৃত হয়েছি। এমনকী নেপালে আন্তর্জাতিক খেলায় দেশের অধিনায়ক হয়েছি। এখন সেগুলি বৃথা বলেই মনে হচ্ছে। এখন ভাবছি, আদৌ কি জীবনে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন পূরণ হবে? কাজ পাব?‌ না, এভাবেই সারা জীবন কাটাতে হবে।’‌

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button