প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, রসেটা স্টোন, কোহিনুর সহ যে যে ন’টি দুর্মূল্য জিনিস চুরি করেছে ব্রিটিশ

বহু বছর আগে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিলাম আমরা। প্রায় ২০০ বছর ধরে ভারতকে ক্রমাগত শোষণ করে গেছেন তারা। প্রায় ৪৫ লক্ষ কোটি ডলারের মতো ধনসম্পত্তি আমাদের ভারত বর্ষ থেকে চুরি করে নিয়ে গেছে ব্রিটিশরা। শুধু ভারত নয় বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে এইভাবে নানারকম মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করেছিল ব্রিটিশ। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই তালিকায় কোন কোন মূল্যবান রত্ন নাম রয়েছে।

কোহিনুর: এই হীরাটির কথা আমরা সকলেই জানি। অন্ধ্রপ্রদেশের কল্লুর খনি থেকে পাওয়া গিয়েছিল এই হীরে। মোগল সম্রাটের মুকুটের শোভা বর্ধন করত কোহিনুর। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমাদের ভারতবর্ষে যখন আসেন, তখন মুঘল সম্রাট নিজেই নাকি ভিক্টোরিয়াতে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে এই হীরাটি দেশে ফেরানোর অনেকবার চেষ্টা করা হলেও কোনো লাভ হয়নি। এই হীরাটি বর্তমানে রয়েছে লন্ডনের জুয়েল হাউসে।

টিপু সুলতানের আংটি: মহীশুরের বাঘ এর সঙ্গে তুলনা করা হতো টিপু সুলতান কে। তিনি ছিলেন মহীশুরের অধিপতি। ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে যাবার পর তার থেকে তরোয়াল এবং আংটি ছিনিয়ে নেয় ব্রিটিশরা। পরে তরোয়াল ফিরিয়ে দেওয়া হলেও আংটি আর ফিরে পায়নি ভারত। ২০১৪ সালে সেই আংটি এক লক্ষ ৪৫ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন ব্রিটিশ সরকার। আংটির উপরে দেবনাগরী ভাষায় রাম লেখা ছিল।

শাহজাহানের সূরা পাত্র: দুধসাদা এই পাত্রে শাহজাহান সুরা পান করতেন। ১৯ শতকে ব্রিটিশ সেনা প্রধান চার্লস সেটন গুথরি এটি চুরি করে নিয়েছিলেন। লন্ডনের ভিক্টোরিয়া এবং আলবার্ট জাদুঘরে ভাগাভাগি করে ভাগাভাগি করে রয়েছে এটি। শাহজাহানের এই পছন্দের পাত্রটিতে ছাগলের মুখ, সিং এবং পদ্ম পাতা দিয়ে নকশা করা রয়েছে।

রসেট স্টোন: কালো রঙের এই ব্যাসল্ট শিলার উচ্চতা ১১৪ সেন্টিমিটার এবং চওড়া ৭২ সেন্টিমিটার। এই শিলা মিশরের ফেরাউনের সম্পত্তি ছিল। এই শিলার উপরে মিশরীয় হরফে অনেক কিছু লেখা রয়েছে। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এটি মিশরীয়দের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তারপর নেপোলিয়ান ব্রিটিশদের কাছে যখন পরাজিত হন, ১৮০০ সালে তখন এটি তাদের দখলে চলে আসে। আজও লন্ডনের ব্রিটিশ জাদুঘরে এই স্টোন টি শোভা বর্ধন করছে।

হেঁড়িয়া ব্রাসিলিয়েন্সিসের বীজ: এটি রবার গাছের বীজ। ব্রাজিল থেকে অন্তত ৭০ হাজার রবার গাছের বীজ চুরি করে নিয়ে এসেছিলেন হেনরি নামক একজন ব্রিটিশ পর্যটক। লন্ডনের রয়েল বোটানিক গার্ডেন এই বীজগুলি রাখা রয়েছে। এই বীজগুলি চুরি করে নিয়ে আসার ফলে ব্রাজিলের অর্থনীতিতে সেই সময়ে ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল।

বেনিন ব্রঞ্চ: ব্রঞ্চের পাতের উপর খোদাই করা হরফের জন্য বিখ্যাত ছিল বেনিন সাম্রাজ্য। ১৯৮৭ সালে বেনিনে আধিপত্য বিস্তার করার পর ব্রিটিশরা দু’শোর বেশি এই খোদাই-করা ব্রঞ্চ চুরি করে নিয়ে আসে। এখনই গুলি রাখা রয়েছে ইংল্যান্ডের জাদুঘরে।

ইথিওপিয়ার পান্ডুলিপি: ইথিওপিয়ার সম্রাটকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর অন্তত ১২ টি ধর্মীয় পান্ডুলিপি ব্রিটিশদের দখলে চলে আসে। ব্রিটিশ গ্রন্থশালা এই পান্ডুলিপি গুলি রাখা রয়েছে। পরবর্তীকালে এগুলি ফিরে পাবার জন্য অনেক চেষ্টা করে ইথিওপিয়া কিন্তু তাদের দাবি মেনে নেয়নি ব্রিটিশরা।

এলগিন মার্বেল: প্রাচীন গ্রিক মন্দির ছিল পার্থেনন। ১৮০৩ সালে লর্ড এলগিন এই মন্দিরের মার্বেল নিয়ে চলে এসেছিলেন। অ্যালগিনের দাবি অনুযায়ী, অনুমতি নিয়েই তিনি মার্বেল এনেছিলেন, যদিও এই কথার সত্যতা তিনি কখনও প্রমাণ করতে পারেনি। যদিও গ্রিকদের দাবি মেনে সেগুলি ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। এগুলি এখনো রয়েছে ব্রিটিশদের জাদুঘরে।

আমরাবতী ভাস্কর্য: এটিও লন্ডনের ব্রিটিশ জাদুঘরে রাখা রয়েছে। আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে মাদ্রাজ থেকে এই ভাস্কর্য গুলি নিয়ে গিয়েছিল ব্রিটিশরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button