গরীব ফল বিক্রেতার ছেলে আজ কঠিন পরিশ্রম ও লড়াই করে 300 কোটি টাকার আইসক্রিমের ব্যবসা,রইলো বিস্তারিত

অনেক ব্যক্তি এমনও আছেন, যাদের স্বপ্নগুলি ছেড়ে দিতে হয় কারণ তাদের সেগুলি পূরণ করার সুযোগ নেই। তার কঠোর পরিশ্রম, মনের জোর, নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস ও প্রতিনিয়ত পরিশ্রমের ম্যাধমে সফলতা আসে, সেটা আমরা সকলেই জানি। এখানে আমরা আজ যার সফলতার কাহিনী আপনাদের বলবো তিনি হলেন রঘুনন্দন শ্রীনিবাস কামাথ। যিনি একজন দরিদ্র ফল বিক্রেতার ছেলে, যিনি কয়েক দশক আগে কর্ণাটক গ্রামের একটি মাটির বাড়ি থেকে মুম্বাইতে নিজের বাড়ি গাড়ি তৈরি করেছেন ও তার এক একটি আইসক্রিম কোম্পানিতে ৩০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়।

রঘুনন্দন কামাথ ১৯৫৪ সালে কর্ণাটকের মুলকিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি সাত ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। রঘুনন্দন তার গ্রামের বাড়িতে শৈশব কাটিয়েছিলেন। কামাথ পরিবারের আর্থিক অবস্থা কোনদিন ভালো ছিল না। রঘুনন্দনের পিতা একজন ফল বিক্রেতা ছিলেন এবং তার সাত সন্তান এবং তার স্ত্রীর চাহিদা মেটানোর জন্য তিনি কষ্ট করে উপার্জন করেছিলেন। রঘুনন্দন একসময় মুম্বাইতে চলে আসে। মুম্বাইয়ের জুহুতে একটি জায়গায় ১২ বাই ১২ ফুট ঘরে তিনি তার পরিবারের সাথে থাকতেন।

তিনি সেখানে একটি আইসক্রিমের দোকান খুলে ফেলে ছিলেন, কিন্তু সেটি ছিল একেবারে অন্যরকম। আম, স্ট্রবেরি, নারকেল থেকে ভুট্টা আইসক্রিম, আরো অনেক স্বাদের আইসক্রিম তৈরি করতে শুরু করেন। একসময় যখন রঘুনন্দন রেস্তোরাঁ থেকে কিছু অর্থ সঞ্চয় করতে পারলেন, তিনি নিজেই দোকান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। রঘুনন্দন কামাথ মুম্বাইয়ের জুহু কলিওয়াদা এলাকায় ২০০ বর্গফুট এবং ছয়টি টেবিল নিয়ে একটি ছোট জায়গায় একটি ছোট দোকান স্থাপন করেছিলেন। অনেক সংগ্রাম এবং ব্যর্থতার পর, তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী।

১৯৮৪ সালে রঘুনন্দন কামাথ চারজন কর্মী এবং দশটি স্বাদের আইসক্রিম নিয়ে মুম্বাইয়ের ভিল পারলে জুহুতে ন্যাচারাল আইসক্রিমের প্রথম দোকান চালু করেন।আজ, ব্র্যান্ডের সারা দেশে বিভিন্ন শহরে ১৩৫ আউটলেট রয়েছে। ২০২০ সালে তাদের ৩০,০০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।“আমাকে বিজ্ঞাপনে এক পয়সাও খরচ করতে হয়নি। এটি বেশিরভাগই মানুষের রেকমেন্ড করার মাধ্যমে হয়েছিল”রঘুনন্দন কামথ বলেছেন। অমিতাভ বচ্চন, দিলীপ কুমার এবং ভিভিয়ান রিচার্ডস সহ বেশ কয়েকজন সেলিব্রেটি তার আইসক্রিম খেয়েছিলেন।

কামথ বলেন, ১৯৮৪ সালে, আমি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কারের একটি টিভি প্রোগ্রাম দ্য সানি ডেজ দেখছিলাম। সাক্ষাৎকারের সময়, ওয়েভ ইন্ডিয়ান ক্রিকেটের প্রাক্তন অধিনায়ক ভিভিয়ান রিচার্ডস উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি ন্যাচারাল আইসক্রিম আউটলেটে গিয়েছিলেন এবং কাস্টার্ড আপেল আইসক্রিম খেয়েছিলেন। রঘুনন্দন কামাথের অনুপ্রেরণামূলক গল্প প্রমাণ করে যে, একটি সফল ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে আসার জন্য আপনার শিক্ষাগত ডিগ্রি পাওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার যা দরকার তা হল কঠোর পরিশ্রম, ভাল প্রবৃত্তি এবং সর্বদা শেখার ক্ষমতা।।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button