এক অভিনব উপায়ে 1.2 ফুট লঙ্কা উৎপাদন করে ‘গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম ওঠালেন এই প্রাক্তন সৈনিক

আপনি নিশ্চই এমন অনেক কৃষকের গল্প শুনেছেন যারা আজকাল জৈব চাষ করছেন এবং ভালো লাভ করছেন। কিন্তু কিছু কৃষক আছেন যারা তাদের অসাধারণ ফসলের জন্য পরিচিত। আজ আমরা এমনই এক কৃষকের কথা বলতে যাচ্ছি যিনি 1 ফুট লম্বা লঙ্কা চাষ করে রেকর্ড গড়েছেন। এটি রাজস্থানের জৈব চাষী মতি সিং রাওয়াত এর গল্প।

বহু বছর সেনাবাহিনীতে চাকরি করার পর মতি সিং চাষাবাদ শুরু করেন। এই লঙ্কার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলোর আকার সাধারন লঙ্কার তুলনায় অনেক বড়। মতি সিং বলেছেন যে, তিনি 1992 সালে একটি নৈশ টহলের সময় আহত হন, তখন তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং তার পা আটকে যায়। এরপরে তার একটি পায়ে সমস্যার কারণে তাকে বিশেষভাবে সক্ষম ঘোষণা করা হয়।

51 বছর বয়সী মতি সিং বলেছেন, “আমি আমার আঘাত থেকে সুস্থ হয়েছি এবং 1995 সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছি, তারপরে আমি আমার জন্মস্থান রাজস্থানের সেলমাতে চাষাবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” মতি সিং তার 1 একরেরও কম জমিতে টমেটো চাষের সিদ্ধান্ত নেন এবং এর জন্য তিনি 1.20 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করার মনস্থির করেন।

তিনি বলেন, “আমি প্রথম ফসল থেকে 80,000 টাকা আয় করেছি এবং তারপরে আরো জমি লিজ নিয়ে চাষ শুরু করেছি।” মতি সিং ব্যাখ্যা করেন যে, অনেক ঐতিহ্যবাহী কৃষকের মতো তিনিও প্রাথমিকভাবে হাইব্রিড চাষের কৌশল ব্যবহার করেছিলেন যাতে কীটনাশক এবং রাসায়নিক সার ব্যবহার করেছিলেন।

কিন্তু পরের কয়েক বছর ধরে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে ক্রমাগত সার ব্যবহারের ফলে মাটিতে জল ধরছে না এবং একইসময় ফসল ফলনের সম্ভবনাও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তার কারণে, তিনি 2008 সাল থেকে জৈব চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তিনি শীঘ্রই পার্থক্য দেখতে শুরু করেন। মতি সিং ক্যাপসিকাম, সবুজ লঙ্কা, টমেটো এবং শসা চাষের জন্য আধা একর জমিতে একটি পলি হাউসও তৈরি করেছেন এবং বাকি জমিতে গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য সবজির চাষ করেন।

তিনি বলেন, “এটি আমাকে 1একর জমি থেকে মাসে 30,000 টাকা উপার্জন করতে সাহায্য করেছিল।” রাজস্থানের তাপমাত্রা প্রায় 40-50℃ এর কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তাই তিনি গ্রীষ্মের মৌসুমে পলি হাউসে ফগিং এবং জল ছেঁটানোর কৌশল ব্যবহার করেছিলেন। ফগিং এবং জলের স্প্রে তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করেছিল। এছাড়াও, তিনি গাছগুলোতে রাসায়নিক যোগ করার আগে 6 মাস ধরে বাটারমিল্ক সংরক্ষণ করেছিলেন এবং বোরোনের পরিবর্তে তিনি তেঁতুল পাতা থেকে রস বের করে ব্যবহার করেন।

গাছকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে তামাক, নিম এবং শরিফা পাতাও ব্যবহার করেন। 2019 সালে একদিন তার ক্ষেতে 1.2 ফুট লম্বা সবুজ লঙ্কা দেখে সে অবাক হয়ে যান এবং আশ্চর্যজনক ব্যাপার ছিল সেটি লঙ্কা ফসলের তৃতীয় বছরের কলম পদ্ধতির এবং এই বীজটি গত ফসল তোলার পাঁচ বছর পর বিকশিত হয়েছিল তা তিনি আজও স্মরণ করেন।

উদ্ভাবনী চাষের জন্য সরকার থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন পুরস্কার ছাড়াও মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তারা প্রায়ই মতি সিং এর খামারে যান এবং তিনি ব্যাখ্যা করেন, “ভালো ফলাফল দেখে অনেক কৃষক এবং আশেপাশের গ্রামবাসী অনুপ্রেরণা এবং নির্দেশনা গ্রহণ করে। আমি যতটা সম্ভব তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে চাই এই ব্যাপারে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button