অতিসাধারণ ফেলে দেওয়া পদার্থ কে কাজে লাগিয়ে ই বাইক বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন 60 বছরের বর্ষীয়ান এই বৃদ্ধ

আপনি যদি মন দিয়ে কিছু করতে চান তবে কোন চ্যালেঞ্জই আপনার পথ আটকাতে পারবেনা। গুজরাটের সুরাটের বাসিন্দা 60 বছর বয়সী বিষ্ণু প্যাটেলের গল্প এমনই। যার কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা তাকে আজ একটি নতুন পরিচয় দিয়েছে। বিষ্ণু প্যাটেল, যিনি একজন প্রতিবন্ধী উদ্ভাবক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, তার শৈশবে পোলিও হয়েছিল যার কারণে তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারতেন না।

কিন্তু তিনি কখনোই তার অক্ষমতাকে তার দুর্বলতা হতে দেননি। বরং, তিনি প্রতিটি অসুবিধা থেকে তার পথ তৈরি করেছেন। বিষ্ণু প্যাটেলের ছেলে নিখিল প্যাটেল আমাদের সাথে কথা বলার সময় বলেছিলেন, “ছোটবেলায় আমার দাদাজি অনেক চেষ্টা করেছিলেন বাবার পায়ের চিকিৎসা করার জন্য, কিন্তু বাবা পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি।

কিন্তু বাবা কখনো এই জিনিসটিকে তার কাজের মাঝে আসতে দেননি।” বিষ্ণু প্যাটেল সম্প্রতি কোন প্রকার পেশাগত প্রশিক্ষণ ও সাহায্য ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ব্যবহার করে একটি ‘ই-বাইক’ তৈরি করেছেন। এই বাইকটির বিশেষত্ব হলো এটি একটি পুরনো জিনিস থেকে তৈরি করা হয়েছে যেমন- যানবাহনের পুরনো যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি ইত্যাদি।

প্যাটেল পরিবারের তামার তারের ছবি আঁকার ব্যবসা রয়েছে, যা বিষ্ণু প্যাটেল শুরু করেছিলেন এবং এখন নিখিলের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। একইসময়, তিনি কারখানা, ভবনে ইত্যাদিতে পানীয় জল সরবরাহের কাজ করেন, যা তার ছোট ভাইয়েরা দেখাশোনা করেন। নিখিল বলেন, “দুই-তিন বছর আগে বাবা হাঁটতে মথুরায় গিয়েছিল এবং সেখানে তিনি দেশি জুগার দিয়ে তৈরি একটি গাড়ি দেখতে পান এবং সেখান থেকে তিনি অনুরূপ কিছু করার চিন্তা করেন এবং তাদের জল পরিবহন ব্যবসায়ে সাহায্য করেছিল, কারণ বর্তমানে তাদের পরিবহনে প্রচুর ব্যয় করতে হচ্ছে”।

বিষ্ণু প্যাটেলের জুগার বাহনের সাহায্যে জল বা অন্য কোনো পণ্য পরিবহন করা যায় সহজেই। বিষ্ণু প্যাটেলকে তার পরিবারের সদস্যরা স্মার্টফোনে ইউটিউব ইত্যাদি চালানো শিখিয়েছিলেন, যদিও তিনি ঠিকমত শুনতে পান না, তবুও তিনি কিছু না কিছু দেখতে পছন্দ করতেন এবং এইসবের কারণে তিনি ইউটিউবে ‘ডু ইট ইয়োরসেল্ফ’ ভিডিও সম্পর্কে জানতে পারেন এবং সারা বিশ্ব থেকে আপলোড হওয়া এই ধরনের ভিডিও দেখতে শুরু করেন।

যখন বিষ্ণু প্যাটেল প্রথম এই ই-বাইকটি তৈরি করেছিলেন তখন তার ছেলে এবং পরিবার নিশ্চিত ছিল তারা এই ব্যবসায় আরো ভালো লাভ করতে পারবে এবং এর প্রথম উদ্ভাবন শেষ করতে তাদের সময় লেগেছে 4-5 মাস এবং তিনি তার উৎপাদন ইউনিটের একটি ছোট কোণে বসে এই পুরো কাজটি করেছিলেন এবং তাদের এখনও একটি কর্মশালা নেই যেখানে তারা তাদের উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করতে পারে।

তিনি আরো জানান যে, “তার বাবা প্রতিবন্ধী তার কারণে তিমি অনেক সংগ্রাম করেছেম এবং তাই তিনি তার উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভিন্নভাবে অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছু করতে চান। একইসময়ে তাদের উদ্ভাবনী কাজ দিয়ে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’তে অবদান রাখার স্বপ্ন রয়েছে।” “আমরা শুধু বাবার এই প্রতিভাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে চাই। আমরা যা করতে পারি তা করার চেষ্টা করছি।

কিন্তু এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আরও বেশি মানুষ তাদের উদ্ভাবন সম্পর্কে জানতে পারে এবং সরকারকে জানা উচিত যাতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করে এবং আমাদের প্রচেষ্টা হলো ‘বর্জ্য থেকে সেরা’ হওয়া এবং কম খরচে বেশি মানুষের সাহায্য করা”, এই কথা বলে নিখিল তার সাক্ষাৎকার শেষ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button