যেভাবে এক নামকরা ডাক্তার থেকে হলেন দাপুটে IAS অফিসার, জানেন ইনি কে? রইলো বিস্তারিত

একজন এমবিবিএস ডাক্তার থেকে আইএএস অফিসার হয়ে ওঠার গল্প কোন কাল্পনিক কাহিনী নয়, এটি বাস্তবে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা।তার ই জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হলেন প্রিয়াঙ্কা শুক্লা।

যেভাবে এক নামকরা ডাক্তার থেকে হলেন দাপুটে IAS অফিসার, জানেন ইনি কে? রইলো বিস্তারিত

 

তিনি একজন এমবিবিএস ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও হলেন আইএএস অফিসার। কিন্তু কেন? সেটাই আজ জেনে নএব আমরা । প্রিয়াঙ্কার বেড়ে ওঠা হরিদ্বারে কারণ তার বাবা কর্মসূত্রে উত্তরাখণ্ডে থাকতেন। তার বাবা পেশায় ছিলেন একজন সরকারি চাকুরে। তার বাবা চাইতেন মেয়ে যেন একজন বড় সরকারি অফিসার হয়। প্রিয়াঙ্কা পড়াশোনা তো যথেষ্টই মেধাবী ছিলেন। পড়াশোনার বিষয়ে তার মা-বাবাকে কখনো কোনো কথাই বলতে হয়নি, নিজের পড়া নিয়ে প্রিয়াঙ্কা যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে প্রিয়াঙ্কার জীবন দৃষ্টি বদলে গিয়েছিল। তিনি এমবিবিএস পাশ করে চিকিৎসক হলেন কিন্তু কোন এক ঘটনা ক্রমে তিনি তার বাবার স্বপ্ন এর কথা মনে পড়ে যায় তাঁর।

যেভাবে এক নামকরা ডাক্তার থেকে হলেন দাপুটে IAS অফিসার, জানেন ইনি কে? রইলো বিস্তারিত

আসুন জানা যাক্ সে ঘটনা, পেশায় চিকিৎসক হওয়ার ফলে তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্যাম্প করতে হতো। এমনই এক সময় লখনৌ এর এক বস্তিতে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে। সেখানে গিয়ে তিনি যা দেখলেন, তা এক আশ্চর্যজনক ঘটনা। একটি মহিলা পানের অযোগ্য জল খাচ্ছেন এবং তিনি তাঁর সাথে তাঁর বাচ্চাকেও ওই জল খাওয়াচ্ছেন। এমন সময় প্রিয়াঙ্কা তাঁকে বাধা দিলে সে মহিলা প্রিয়াঙ্কার দিকে অদ্ভুত কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দেন, যা শুনে প্রিয়াঙ্কার জীবনের লক্ষ্য আবারও বদলে যায়। প্রশ্ন এটাই করেছিলো যে তাকে উপদেশ দেওয়ার প্রিয়াঙ্কা কে হন? জেলাশাসক না কোনো উচ্চপদস্থ অফিসার? সেদিন কোনো উত্তর দিতে পারেননি প্রিয়াঙ্কা ঠিকই , কিন্তু তিনি সেই দিন থেকেই মনস্থির করে ফেলেছিলেন যে তিনি আইএএস অফিসার হবেনই।

যেভাবে এক নামকরা ডাক্তার থেকে হলেন দাপুটে IAS অফিসার, জানেন ইনি কে? রইলো বিস্তারিত

যার ফলশ্রুতি আমরা দেখতে পাই ২০০৯ সালে তিনি আইএস পরীক্ষাতে পাস করেন এবং বর্তমানে তিনি এখন ছত্রিশগড়ে চাকরিরত। আইএএস হবার দু’বছরের মধ্যেই ২০১১ সালে তিনি সেন্সাস সিলভার পদক পান এবং রাষ্ট্রপতির থেকে তিনি আরও একটি পুরস্কার পান। যথেষ্ট গর্বের সাথে আশা রাখা যায় যে, বাঙালির ঘরে ঘরে যেন এমনই প্রিয়াঙ্কার বিকাশ ঘটতে থাকে। তাহলে হয়তো আগামী দিনে আমাদের সমাজ খানিকটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে, যেখানে মেয়েদের স্থান অনেকটাই উঁচুতে থাকবে। আজও বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে অনেকেই যেখানে কন্যা সন্তান হলে মুখ সিটকায় সেখানে প্রিয়াঙ্কার মত মেয়েরাই হলো উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ছেলে মেয়ে এখন সবাই সমান মাপকাঠিতে বিচার করা হয়। একটি মেয়েকে উপযুক্ত শিক্ষা দিলে সেও যে কোন অংশে একটি ছেলের থেকে কম হয়না, এই চিন্তা ধারাটিই আনতে হবে আমাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button